Taking too long? Close loading screen.
Sale!

পিতামহ

৳ 800.00 ৳ 560.00

ফোনে অর্ডারের জন্য ডায়াল করুন
ঢাকায় ডেলিভারি খরচ: ৳ 60.00
ঢাকার বাইরের ডেলিভারি খরচ: ৳ 100.00

পরদিন ভোরের সূর্য যেন একটু আগেভাগেই উদিত হলো মক্কার আকাশে। নগরবাসী চোখ ডলতে ডলতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল বাইরে। কোরাইশ সরদারদের পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজনসহ তারা আশ্রয় নিল মক্কার পার্শ্ববর্তী আবু কুবাইস পাহাড়ে। ততক্ষণে মুগাম্মাস থেকে মক্কার উদ্দেশে রওনা হয়েছে আবরাহার হস্তিবাহিনী।

নগরবাসীর মনের রঙ ক্রমাগত বদল হচ্ছে। নানা শঙ্কা ও সম্ভাবনায় বদলাচ্ছে তাদের চেহারার ভাব ও ভঙ্গি। জন্মের পর থেকেই যে ঘরকে তারা আল্লাহর ঘর হিসেবে জেনে এসেছে, ভক্তি ও ভালোবাসার সর্বোচ্চ চূড়ায় রেখেছে যে ঘরের সম্মান, সেই ঘর কি ধ্বংস করতে সক্ষম হবে এক বর্মধারী শাসক? আসমান থেকে খোদায়ী গজব কি নেমে আসবে না ওই বাহিনীর ওপর?

আবদুল মোত্তালিবের গতকালের প্রার্থনা আশা যোগাচ্ছে নগরবাসীকে। প্রার্থনায় অদৃশ্য আল্লাহকে যেন চোখের সামনে হাজির করেছিলেন আবদুল মোত্তালিব, এমনই ছিল তার আব্দারের ভঙ্গি। যেন এক স্নেহধন্য সন্তান অভিমানী গলায় বাবার কাছে কোনো কিছু পাওয়ার ন্যায্য দাবি জানাচ্ছে—'আমাদের কেবলাকে তুমি যদি তাদের হাতে ছেড়ে দেয়ার মনস্থ করেই ফেল তবে যা খুশি তাই করো তুমি।'

এমন আব্দার কি ফেলতে পারেন করুণাময় আল্লাহ! তিনি কি এতই অবিবেচক?

প্রার্থনার ভাষাই শুধু নয়, প্রার্থনার মুহূর্তটাও আশা যোগাচ্ছে নগরবাসীকে। দুপুরের পরের সেই মুহূর্তটায় কাবার আকাশে ছিল তীব্র রোদ। আবরাহার আতঙ্কে যেমন অস্থির ছিল মানুষেরা, তেমনি অস্থির হচ্ছিল গরমে। সেই অবস্থায় আবদুল মোত্তালিব যখন প্রর্থনা শুরু করলেন, কাবার চত্বর ঢেকে গেল এক খণ্ড কালো মেঘে। অমনি অলৌকিক এক স্নিগ্ধতা আচ্ছন্ন করল মজমাকে। কোথায় পালিয়ে গেল সূর্যের উত্তাপ! কোথায় মিলিয়ে গেল মনের অস্থিরতা!

নগরবাসী ভাবে, আবদুল মোত্তালিবের প্রার্থনা উপেক্ষা করতে পারবেন না কাবার মালিক। শত বছর পর এই আবদুল মোত্তালিবের কাছেই তো তিনি উন্মুক্ত করেছেন জমজমের ঠিকানা। আল্লাহ যাকে জমজম দিয়ে সম্মানীত করেছেন, দোয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে আজ তাকে অসম্মানীত করবেন না দয়াময়। নগরবাসীর এমনই এক আস্থা আবদুল মোত্তালিবের ওপর।

নগরবাসীর সাথে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আবু কুবাইস পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আবদুল মোত্তালিব। তার অস্থির চোখ চেয়ে আছে মুগাম্মাসের রাস্তার দিকে। জনতার মতো তার মনেও নানান সংশয়। সত্যি সত্যি কি তার চোখের সামনে ধুলিস্মাৎ হয়ে যাবে কাবার দেয়াল?

হঠাৎ তিনি খেয়াল করলেন, পরিবারের সদস্যদের ভেতর পুত্রবধূ আমেনা নেই। আমেনা কোথায়—অস্থির হয়ে তিনি চারপাশে খুঁজতে লাগলেন পুত্রবধূকে। কিন্তু কোথাও তার চাঁদমুখটা দেখতে পেলেন না। দুর্ভাবনা গ্রাস করল সরদারকে। চিৎকার করে স্ত্রী ফাতেমার কাছে জিজ্ঞেস করলেন, আমেনা আসেনি? তাকে দেখছি না কেন?
তার তো আসার কথা। কেন, এখানে নেই সে? বলতে বলতে স্বামীর মতো ফাতেমাও চারপাশে খুঁজতে লাগলেন আমেনাকে।
আবদুল মোত্তালিব আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না। বৃদ্ধ শরীরে, লাঠিতে ভর দিয়ে পাহাড় ছেড়ে যতটা দ্রুত সম্ভব তিনি নিজ মহল্লার দিকে ছুটতে লাগলেন।
বাবা কোথায় যাচ্ছেন—ছেলেরা জিজ্ঞেস করল। তিনি কারো কথার জবাব দিলেন না। স্ত্রী-সন্তানদের ওপর তার বিরক্ত লাগছে। বৃদ্ধ মানুষ তিনি। তাকে সামলাতে হচ্ছে পুরো নগরটাকে। সেই মানুষটা কি পরিবারের এত খোঁজখবর রাখতে পারেন! এই দুঃসময়ে যখন পুরো মক্কাবাসী ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, তখন তার ছেলেরা এবং স্ত্রীরা মেয়েটার কোনো খবরই নেয়নি। আবদুল মোত্তালিবের মনে হয়, আমেনার কথা কেউ মনেই করেনি। আসবাবপত্রের মতো তাকে ফেলে এসেছে সবাই। সন্তানসম্ভবা এই মেয়েটার জন্য বড় মায়া হয় আবদুল মোত্তালিবের। আজ আবদুল্লাহ বাড়িতে থাকলে এই দুরাবস্থা হতো না তার। এই দুঃসময়ে কেন যে তিনি আবদুল্লাহকে শামে পাঠালেন!

দ্রুত পায়ে তিনি আমেনার ঘরে গিয়ে দেখলেন, নির্ভার চেহারায় মেয়েটা শুয়ে আছে বিছানায়। মক্কার ওপর দিয়ে বিপদের যে তুফান বয়ে যাচ্ছে, তার কোনো খবরই যেন সে রাখে না। তিনি উত্তেজিত গলায় বললেন, তুমি ঘরে শুয়ে আছ যে মা! পাহাড়ে আশ্রয় নেয়ার কথা কেউ বলেনি তোমাকে?

শ্বশুরকে দেখে উঠে বসলেন আমেনা। শান্ত অথচ দীপ্ত কণ্ঠে বললেন, বলেছে। সবাই বলেছে। কিন্তু আমি ঘর ছেড়ে কোথাও যাব না। আপনার কি মনে হয় বাবা, এক দুরাচার আল্লাহর ঘর ভাঙতে আসবে আর আল্লাহ তাকে ছেড়ে দেবে? আমি এক পুন্যময় শিশুকে গর্ভে ধারণ করেছি। তাকে নিয়ে আমি বাইরের ধুলাবালিতে যেতে পারব না, বাবা। আপনি ফিরে যান। আমার জন্য দুশ্চিন্তা করবেন না। আবরাহা আমাদের কিছুই করতে পারবে না।

আল্লাহর প্রতি আমেনার অগাধ বিশ্বাস আর ভরসা বিস্মিত করল আবদুল মোত্তালিবকে। এই আত্মবিশ্বাস কোথায় পেল মেয়েটা! তিনি বুঝলেন, এই মেয়ে কিছুতেই ঘর থেকে বেরোবে না। জোর খাটালেও না। তিনি আমেনাকে রেখে আবার পাহাড়ের দিকে ছুটতে লাগলেন....

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নবীজীর দাদা আবদুল মোত্তালিবের জীবনাশ্রিত উপন্যাস থেকে।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “পিতামহ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0
৳ 0.00
Your Cart
No product in the cart