ইসলাম জীবনের ধর্ম

৳ 190.00

ফোনে অর্ডারের জন্য ডায়াল করুন

ডেলিভারি খরচ

ঢাকায় : ৳ ৫০.০০
ঢাকার বাইরের : ৳ ৯০.০০

Description

মানবজীবন আসলে কি? যে জীবনটা আমরা প্রতিনিয়ত যাপন করে চলেছি, হেসে খেলে আমদ-ফূর্তিতে কিংবা রোদে ঘেমে, বৃষ্টিতে ভিজে; উদ্দেশ্য কি এটিই শুধু- বেঁচে থাকতে হবে! নাকি জীবন পাওয়া-না পাওয়ার খতিয়ান খাতা, শুধুই অঙ্ক কষে চলা- হা হুতাস করা! কখনো বা এমনটা ভাবা, বাঁচবোই না তো একদিন, যেভাবে পারি আনন্দ করে নেই; ভোগেই সুখ- এটাই কি জীবন? না-কি এমন আরো কিছু জিনিস আছে, যা জীবনেরই অনুষঙ্গ; যার সংস্পর্শে পূর্ণতা পায় জীবন, সেগুলিকে আমরা মুছে ফেলছি আমাদের জীবনের ক্যানভাস থেকে, ধীরে ধীরে- প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে। অথচ সেই ‘অনুষঙ্গ’, যা শাশ্বত সত্য ধর্ম ইসলামের বহুকণিক আলোচ্ছোটায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে তার স্বমহিমায়। বিশ্বাসী আমাদের জীবনকে করে তোলে আরো আলোকিত। আরো কাঙ্ক্ষিত, যা একজন মুমিন মাত্রই প্রত্যাশা করে। শাশ্বত সৌন্দর্যের পথে পরিচালিত হয়। দ্বীনি উৎকর্ষ সাধনে ও কর্তব্য পালনে ধাবিত হয়।

তেমনই কিছু সৌন্দর্য, সৌকর্য ও কর্তব্যের কথা তেইশটি ছোট বড়ো গদ্য তুলে এনেছেন হালের শিকড়সন্ধানি লেখক; ভাষ্কর্যপ্রতিম আশ্চর্য এক গদ্যের অধিকারী মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ এসব গদ্যের বিষয়। তিনি আমাদের বোধ, চেতনা, ব্যক্তি, সমাজ ও আচরণের নানা রকম অবয়ব ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ধরে ধরে দেখান। গদ্যগুলোর আঙ্গিক, লেখকের ভাষায়, “কখনো প্রবন্ধের পোশাকে, কখনো গল্পের গতিতে।”

গ্রন্থকার বইটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। যাকে লেখক অবহিত করেন “মনন, স্বাদ ও গ্রহণের তিনটি অধ্যায়” হিসেবে। যথাক্রমে… ১/ জীবনের জন্য। ২/ মনীষীর মুখোমুখি। ৩/ আবেগের ফুলকি।

★প্রথম অধ্যায় হলো, “জীবনের জন্য”। বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তেইশটি জীবনঘনিষ্ঠ লেখা এতে জমা করেছেন লেখক। জীবনঘনিষ্ঠ ব্যাপারগুলোকে সর্বকালের সেরা এবং শাশ্বত ধর্ম ইসলামের দর্পনে দেখানো হয়েছে। এবং লেখক প্রমাণ করেছেন, ইসলামই একমাত্র জীবনের ধর্ম। ইসলাম জীবন্ত ধর্ম। সৌন্দর্যের ত্যাগের মাধ্যমে অর্জনের শিখড়ে পৌঁছার ধর্ম। লেখকের ভাষায় বলি তবে… “একগুচ্ছ গদ্য। হৃদয়গ্রাহী ও মননদীপ্ত। ইসলাম ও জীবনের সঙ্গে জড়িত। জীবনের সৌন্দর্য, ত্যাগ, অর্জন, সংস্কৃতি, জীবনাচারের ভুলশুদ্ধ এবং আবেগদীপ্ত বর্ণনার ঝলক।” আমরা পড়ে যেতে থাকি। একজন মুসলিম হিসেবে আমার ভাষা ব্যবহার কেমন হবে। কেমন হবে আমাদের ইবাদত; নামাজ রোজা সুন্নতের গুরুত্ব! দেশ-সমাজ-সংস্কৃতি থেকে নিয়ে আজকের আধুনিকতার আলো-আঁধারির গলিগুপচি, কোথায় কলম ধরেন নি লেখক! বাদ যায় নি ছোটদের কথাও। প্রসঙ্গক্রমে এসে যায় আমাদের আত্মপরিচয়ের অন্বেষা। আমরা পাতার পর পাতা উল্টাতে থাকি। আমরা বিষ্ময় মানি। আমরা ফিরে দেখি কিছুক্ষণ আগেই ফ্ল্যাপে পড়ে ওঠা আরেক গদ্যশিল্পী শামীম আহমাদের মূল্যায়ণ লেখক সম্পর্কে, “বইটি পাঠ শেষে পাঠকের মনে হতেই পারে- হৃদয়েরর ব্যাকুলকা ও দৃষ্টির দূরদর্শিতা নিয়ে আগমন করেছেন নতুন মাত্রার এক গদ্যশিল্পী। পদ্যে নয়; তাঁর ঝরঝরে গদ্যের ঝরনা বেয়ে নেমে এসেছে কালের ‘সিন্দাবাদ’ ও ‘সাত সাগরের মাঝি’। যিনি তাঁর ঐতিহ্যে ঋজু ঋদ্ধ ও আপন বিশ্বাসে অটল।”

★দ্বিতীয় অধ্যায় হলো, “মনীষীদের মুখোমুখি।” আসুন, লেখকের কলম থেকেই জেনে নেই কি আছে এ অধ্যায়টিতে, “ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে ১৫টির অধিক সাক্ষাৎকার। প্রতিটিই ইসলাম ও জীবনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। তাই প্রতিটি ইস্যু ও বক্তব্যই জীবনের মাধুর্য বিদ্যমান।” এক দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে সাক্ষাৎকারগুলি নেয়া হয়েছে এমন কতক মনীষীদের মুখোমুখি হয়ে, আজ তাঁদের অনেকেই আলো-ছায়াময় পৃথিবীতে নেই, যাঁরা তাঁদের অন্তরের অন্দরকুঠিরে হেরার আলো পোষেণ। যাঁদের সুখময় জীবন আপ্লুত হয়ে আছে ইসলামের রূপে রসে ও মাধুর্যে! গ্রন্থভুক্ত সাক্ষাৎকারগুলো আলোচিত বইটিকে অনন্য এক উচ্চাতা ও গুরুত্ব দান করে। যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের কথাগুলো আলোর মশাল হয়ে আমাদের ‘সীরাতে মুস্তাকিম’ এর পথপদর্শন করবে- এ আশা আমরা করতেই পারি।

★তৃতীয় অধ্যায় হলো “আবেগের ফুলকি”। নতুন এই অধ্যায়টি সম্পর্কে আমরা জানতে পারি অধ্যায়ের ‘প্রবেশমুখেই’। “প্রবন্ধের মতোই। তবু বিষয় ও প্রেক্ষাপটে কিছুটা আবেগের পরশ। সময় ও জীবনের ছোঁয়া। হৃদয়, উত্তাপ, মনন, প্রতিবাদ। একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন। এতটুকুই এই অধ্যায়ের পটভূমি।” বইয়ের একেবারে শেষভাগে এসে আমরা থমকে দাঁড়াই। কিছু জিনিস পরপর আসতে থাকে আমাদের সামনে; ইসলামবিরোধী ব্লগারদের বিষোদগার, ফতোয়া নিষিদ্ধকরণে হাইকোর্টের রায়… পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালতে ‘ফতোয়া বৈধ’- এ মর্মে রায়, ঢাকার একটা সেমিনারে জার্মান পণ্ডিত হ্যান্সের ইসলাম বিষোদগারমূলক বক্তব্য আমাদের হৃদভূমিতে কম্পন সৃষ্টি করে। মুমিন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পরক্ষণেই নিকষ অন্ধকারের মাঝেও আমরা আলো ফুলকি দেখতে পাই; আমরা জানতে থাকি “বৃহৎ ইসলামি বিশ্বকোষ” এর কথা। ২৮ খন্ডের বিশালাকার এই গ্রন্থ কিভাবে মাত্র পনের থেকে ষোল বছরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে, আমরা সে গল্প পড়তে থাকি। আমরা লেখক মারফত মুখোমুখি হই সে সময়কার (২০০৭) ইফাবা’র ইসলামি বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক হাবিবুল মতিন সরকারের। আমরা তাঁর মুখেই শুনতে থাকি এই বৃহৎ গ্রন্থটির পিছনে সময় ব্যয় করা সেই মনীষীদের গল্প। আর এভাবেই আমাদের চেতনার মর্মমূলে ঝড় তুলে সমাপ্ত হয় “আবেগের ফুলকি”। এবং “ইসলাম জীবনের ধর্ম”ও তার বৃহৎ-কলবরের অন্তিম পাতায় পৌঁছে যায়; জাগ্রত করে দিয়ে যায় এক মহানবোধ- “শাশ্বত সৌন্দর্যের ধর্ম ইসলাম। জীবনের ধর্ম। মনুষ্যত্বের ধর্ম। ইসলাম জীবনের কথা বলে। জীবনের সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা করে। মানুষের ইহকাল এবং পরকালের সফলতার পথপ্রদর্শন করে।”

লেখক: শরীফ মুহাম্মদ